বৃহস্পতিবার ২০, জানুয়ারী ২০২২

বান্দরবানে নওমুসলিম হত্যা: মামলার তদন্তে নেই অগ্রগতি

বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়ির ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মুসলিম মোহাম্মদ ওমর ফারুককে হত্যার এক সপ্তাহ পরেও এ বিষয়ে দায়ের করা মামলার কোন অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছে সেখানকার পুলিশ।

বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়ির ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মুসলিম মোহাম্মদ ওমর ফারুককে হত্যার এক সপ্তাহ পরেও এ বিষয়ে দায়ের করা মামলার কোন অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছে সেখানকার পুলিশ।

গত ১৮ই জুন রাতে মি. ফারুককে রোয়াংছড়িতে নিজের বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর সেখানকার বাঙালি সংগঠনগুলো ঘটনার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করলেও জনসংহতি সমিতি বলছে পার্বত্য এলাকায় ধর্মকে ব্যবহার করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রাখতে একটি ''বিশেষ গোষ্ঠী'' এটি করতে পারে বলে মনে করেন তারা।

জনসংহতি সমিতির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কে এস মং মারমা সাংবাদিকদের বলেন জনসংহতি সমিতি কারও ব্যক্তিগত ধর্ম পালন নিয়ে কৌতূহল দেখায় না, কারণ এখানে সব ধর্মের প্রতিনিধিত্ব আছে এবং সংগঠনটি ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে।

"বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা কারা তৈরি করে এটা এ অঞ্চলের সবাই জানে। এবার তারা ধর্মকে ব্যবহার করে সেটি করতে চাইছে। কিন্তু যতটুকু জানি ওমর ফারুক তো নতুন করে মুসলিম হননি। তিনি বলেন, পুলিশের উচিত খুঁজে বের করা যে কারা এগুলো ঘটিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে পাহাড়িদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করে।"

তবে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের নেতা কাজী মুজিবুর রহমান ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতিকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "মুসলিম হওয়ার কারণেই ওমর ফারুককে হত্যা করেছে কারণ তিনি তার এলাকায় একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করছিলেন।"

তবে রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদ কবীর বলছেন কেন ওমর ফারুক খুন হয়েছেন সেটি এখনো তাদের অজানা এবং এ নিয়ে তদন্তে কোন অগ্রগতি এখনো হয়নি।

যদিও স্থানীয় কয়েকজন পেশাজীবী বলছেন পার্বত্য অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু ঘটনা ঘটে যার পরপরই বাঙালি কিছু সংগঠন সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং পাহাড়ি বিভিন্ন সংগঠনকে দায়ী করা হয়। কিন্তু এসব ঘটনার তদন্তে পুলিশকে খুব একটা উৎসাহ দেখাতে দেখা যায় না। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা।

এইচএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *